2017/06/24

আপডেইট হয়েছে :  

স্বরণিকা

সর্বশেষ বিষয়

আমাদের তরফ হতে সহযোগিতা

গাজীপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জামায়াতের আমির নিজামী

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

 

আজ (রোববার) ১১টা ৫৫ মিনিটে নিজামীকে নিয়ে পুলিশের একটি প্রিজনভ্যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে এটি রওনা দেয় রাত ১০টা ২৫ মিনিটে।

 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ফাঁসির সেলের বন্দী মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গত বৃহস্পতিবার খারিজ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে কারাগারে রেডিও’র মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার খবর শুনেছেন তিনি। এর পরদিন ৬ মে নিজামীর স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়ে কারাগারে দেখা করেন নিজামীর সঙ্গে। এসময় নিজামী প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ চাইবেন না বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেন।

 

পরে নিজামীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি (নিজামী) রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না। তিনি বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি, প্রাণের মালিক আল্লাহ। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি দেশবাসীকে আমার সালাম জানাচ্ছি ও দোয়া চাচ্ছি, যাতে আমি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঈমানের ওপর দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পারি। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। আমার মাঝে কোনো দুর্বলতা নেই। আমি কোনো অন্যায় করিনি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ সরকার আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আল্লাহ যদি আমাকে শহীদী মৃত্যু দেন, তাহলে সেটা হবে আমার চরম সৌভাগ্য’।”

 

প্রাণভিক্ষার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করায় নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করতে এখন শুধু পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) রায়ের অনুলিপি প্রকাশের অপেক্ষা। অনুলিপি প্রকাশ হওয়ার পর সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে।

 

মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ২-৩ মাস আগে মতিউর রহমান নিজামীকে কাশিমপুরের ওই কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও চট্টগ্রাম কারাগারেও বন্দী ছিলেন।

 

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ২৯ মার্চ নিজামীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেন।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজামীর বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে পাবনার বাউসগাড়ি ও ডেমরা গ্রামে ৪৫০ জনকে নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ, করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনার দায়ে (২,৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ) নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগের রায়ে করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণের দায় (৪ নম্বর অভিযোগ) থেকে নিজামীকে খালাস দেয়া হয়। বাকি তিন অভিযোগে তাঁর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়।

 

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু করা হয়।#

 

আশরাফুর রহমান/৮

 

 

 

sharethis গাজীপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জামায়াতের আমির নিজামী

ارسال یک پاسخ

ایمیل شما منتشر نمی شود.
আবশ্যকীয় বিষয়গুলো * চিহৃ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছ।.

*


1 + = نُه

আমাদেরসাথেযোগাযোগ| RSS | সাইটেরভূমিকা

এইসাইটেরসর্বস্বত্ব ‘ইসলাম১৪’ এরজন্যসংরক্ষিত; তবেরিফারেন্সসহকোনকিছুবর্ণনাকরতেপারেন।