2017/08/22

আপডেইট হয়েছে :  

স্বরণিকা

সর্বশেষ বিষয়

আমাদের তরফ হতে সহযোগিতা

সূরা কাহাফ; আয়াত ৫০-৫৩

সূরা কাহাফের ৫০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآَدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا (50)
“(স্মরণ কর) যখন আমরা ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আদমকে সিজদা কর,তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত এবং সে তার প্রতিপালকের আদেশ লঙ্ঘন করল। তবে কি তোমরা আমাকে ত্যাগ করে তাকে এবং তার বংশধরকে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা তো জালেমদের জন্য নিকৃষ্টতম বদল বা প্রতিস্থাপন (শয়তানকে আল্লাহর স্থানে স্থাপন)।”(১৮:৫০)

মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত আদম (আ.)’র প্রতি ফেরেশতাদের সিজদা দেয়ার ঘটনা পবিত্র কুরআনের কয়েকটি সূরায় স্থান পেয়েছে। প্রতিবারই এ ঘটনার মাধ্যমে নতুন বা ভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আল্লাহ বলছেন: এমনটি ভেব না যে এ ঘটনা মানব সৃষ্টির শুরুতে ঘটেছিল এবং তা শেষ হয়ে গেছে বলে শয়তান মানুষের ব্যাপারে শান্ত হয়ে গেছে। শয়তান ফেরেশতা ছিল না, বরং ছিল জিন জাতির সদস্য। তারও সন্তান-সন্ততি ও বংশধর রয়েছে। শয়তানের সমর্থক ও বংশধরদের সবাই মানুষের শত্রু। তারা সব সময়ই মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে আসছে যাতে মানুষকে ধোঁকা দেয়া যায়।

এ আয়াতে মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হচ্ছে, কেন সতর্ক হচ্ছ না? কেন আল্লাহর নির্দেশ না শুনে শয়তানের অনুসরণ করছ? শয়তানকে আল্লাহর স্থানে আসন দেয়া অত্যন্ত নোংরা ও অপছন্দনীয় কাজ। এটা হচ্ছে নিজের প্রতি বড় ধরনের জুলুম।

এ আয়াত থেকে মনে রাখা দরকার:
এক. মানুষের মর্যাদা ফেরেশতাদের চেয়েও বেশি। তাই আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে সিজদা দিয়েছে ফেরেশতারা। আর আমরা মানুষ হয়ে কেন শয়তানের অনুসরণ করব যে মানুষকে সিজদা করতে রাজি হয়নি?
দুই. শয়তান হযরত আদম (আ.)-কে সিজদা করেনি বলে আল্লাহর দরবার থেকে বিতাড়িত হয়েছে। তাই এটা কি বোঝা যায় না যে যারা নামাজ পড়ে না এবং আল্লাহর সমীপে সিজদা করে না তাদের সঙ্গে আল্লাহ কি আচরণ করবেন?

সূরা কাহাফের ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
مَا أَشْهَدْتُهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنْفُسِهِمْ وَمَا كُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا (51)
“আমি আকাশমণ্ডলী ও ভূমণ্ডল সৃষ্টিকালে তাদের (শয়তানদের) সাক্ষীরূপে গ্রহণ করিনি, স্বয়ং তাদের সৃজনকালেও তা করিনি।আমি এমন নই যে, বিভ্রান্তকারীদের সাহায্যকারী রূপে গ্রহণ করব।”(১৮:৫১)

আগের আয়াতের ধারাবাহিকতায় এ আয়াতে আল্লাহ বলছেন, শয়তান ও তার সহযোগীরা সৃষ্টি জগত গঠনে কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কেও তাদের কোনো জ্ঞান নেই। ফলে সৃষ্টি জগতে হস্তক্ষেপ করার কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই। শয়তান ও তার অনুসারীরা তোমাদের মতই দুর্বল। তাদের অবগতির মাত্রাও তোমাদেরই সমান। তাই মানুষকে সাহায্য করার ও তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষমতা শয়তানদের নেই। বরং সব ধরনের অশান্তি, নৈরাজ্য ও মন্দ কাজের উতস হল শয়তান এবং তার দল-বল বা অনুসারী। সৃষ্টি জগতের গঠন বা ব্যবস্থাপনায়ও শয়তানদের কোনো ভূমিকা নেই।

অন্যদিকে, ফেরেশতারা মানুষের বিষয়সহ বিশ্ব পরিচালনার কোনো কোনো দিকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন আল্লাহর নির্দেশে। অন্য কথায় তারা এসব ক্ষেত্রে আল্লাহর নিযুক্ত কর্মচারী মাত্র।
এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে আল্লাহর বিশেষ বান্দাগণও অবশ্যই পথভ্রষ্টদের সাহায্য গ্রহণ করেন না। এ কারণেই হযরত আলী (আ.) খেলাফতের বিষয়ে আবু সুফিয়ানের সাহায্য বা ঈমাম হুসাইন (আ.) উবায়দুল্লাহ বিন হুরের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর এ থেকে হযরত আবু তালিবের ঈমান ও তাঁর সৎকর্মের বিষয়টিও সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়।

এ আয়াত থেকে আমাদের মনে রাখা দরকার:
এক. মানুষের ওপর অভিভাবকত্ব ও প্রভুত্ব একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া আর কেউই মানুষের ওপর এ ধরনের কর্তৃত্বের অধিকারী নয়।
দুই. যারা আল্লাহর পথে অগ্রসর হন, তারাও আল্লাহর মতই আল্লাহ ছাড়া কোনো জালেমের সাহায্য গ্রহণ করেন না, বরং তারা স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে চলেন।

সূরা কাহাফের ৫২ ও ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمْ مَوْبِقًا (52) وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُمْ مُوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا (53)
“(স্মরণ কর) যেদিন তিনি (মুশরিকদের) বলবেন, ‘তোমরা যাদের আমার অংশী মনে করতে তাদের আহ্বান কর, অতঃপর তারা তাদের আহ্বান করবে, কিন্তু তারা তাদের (আহ্বানের) কোন উত্তর দেবে না এবং আমরা তাদের উভয়ের মধ্যে ধ্বংসের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছি।” (১৮:৫২)
“এবং অপরাধীরা দোযখের আগুন দেখে উপলব্ধি করবে যে, তারা তাতে নিক্ষিপ্ত হবেই, আর তারা তা থেকে পরিত্রাণের কোন পথ পাবে না।” (১৮:৫৩)

শয়তানের অনুসরণ ও তার কর্তৃত্ব মেনে নেয়ার ফলে মানুষ শিরকে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায়। সম্পদশালী ও ক্ষমতাসীনরা এইসব মানুষের খোদা হয়ে পড়ে। অথচ কিয়ামতের দিন এইসব ক্ষমতাধর ও সম্পদশালীরা নিজেদেরই রক্ষা করতে পারবে না, অন্যদের মুক্ত করা তো দূরের কথা।
আসলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ ছাড়া কেউই মানুষের কোনো উপকার করতে পারবে না। যারাই দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো শরণাপন্ন হয় তারা কিয়ামতের দিন অসহায় অবস্থায় থাকবে। তারা যতই চেঁচামেচি ও আর্তনাদ করুক না কেন কোনো জবাব পাবে না। কেবল দোযখের আগুন ও ধ্বংসের গহ্বরই হবে তাদের আবাসস্থল।

এ আয়াত থেকে আমাদের মনে রাখা দরকার:
এক. আমরা যদি আল্লাহকে ডাকি তাহলে অবশ্যই জবাব শুনতে পারব, তা দুনিয়াতেই হোক ও পরকালেই হোক। কিন্তু আমরা যদি অন্যদের ডাকি তাহলে দুনিয়াতে হয়ত জবাব শোনা যাবে, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহ ছাড়া ফরিয়াদের জবাব দেয়ার ক্ষমতা কারোরই থাকবে না।
দুই. শির্ক বা অংশীবাদীতার মূল বা শেকড় হল ভিত্তিহীন চিন্তা-ভাবনা। বিবেকবান ও জ্ঞানী মানুষ কখনও শির্কের শিকার হন না।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান

sharethis সূরা কাহাফ; আয়াত ৫০ ৫৩

ارسال یک پاسخ

ایمیل شما منتشر نمی شود.
আবশ্যকীয় বিষয়গুলো * চিহৃ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছ।.

*


− 1 = هیچ

আমাদেরসাথেযোগাযোগ| RSS | সাইটেরভূমিকা

এইসাইটেরসর্বস্বত্ব ‘ইসলাম১৪’ এরজন্যসংরক্ষিত; তবেরিফারেন্সসহকোনকিছুবর্ণনাকরতেপারেন।