2017/08/23

আপডেইট হয়েছে :  

স্বরণিকা

সর্বশেষ বিষয়

আমাদের তরফ হতে সহযোগিতা

আলী (আ.)’র শাহাদত ও রমজান সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.)’র প্রাণস্পর্শী ভাষণ

আলী (আ.)’র শাহাদত ও রমজান সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.)’র প্রাণস্পর্শী ভাষণ

grey আলী (আ.)র শাহাদত ও রমজান সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.)র প্রাণস্পর্শী ভাষণ

“হে মানুষ! নিঃসন্দেহে তোমাদের সামনেরয়েছে আল্লাহর বরকতপূর্ণ মাস। এ মাস বরকত, রহমত বা অনুগ্রহ ও ক্ষমার মাস। এমাস মহান আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসের দিনগুলো সবচেয়ে সেরা দিন, এররাতগুলো শ্রেষ্ঠ রাত এবং এর ঘণ্টাগুলো শ্রেষ্ঠ ঘণ্টা। এ মাস এমন এক মাস যেমাসে তোমরা আমন্ত্রিত হয়েছ আল্লাহর মেহমান হতে তথা রোজা রাখতে ওপ্রার্থনা করতে। তিনি তোমাদেরকে এ মাসের  ভেতরে সম্মানিত করেছেন। এ মাসেতোমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস মহান আল্লাহর গুণগান করার  বা জিকরের (সওয়াবের)সমতুল্য; এ মাসে তোমাদের ঘুম প্রার্থনার সমতুল্য, এ মাসে তোমাদের সৎকাজ এবংপ্রার্থনা বা দোয়াগুলো কবুল করা হবে। তাই মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিক ও (পাপ ও কলুষতামুক্ত) পবিত্র চিত্তে প্রার্থনা করো যে তিনি যেন তোমাদেরকেরোজা রাখার এবং কোরআন তেলাওয়াতের তৌফিক দান করেন।

নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি প্রকৃতই দুর্ভাগাবা হতভাগ্য যে রমজান মাস পেয়েও মহান আল্লাহর ক্ষমা হতে বঞ্চিত হয়। এ মাসেক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে কিয়ামত বা শেষ বিচার দিবসের ক্ষুধা ও তৃষ্ণারকথা স্মরণ কর। অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদেরকে সাহায্য কর ও সদকা দাও। বয়স্ক ওবৃদ্ধদেরকে সম্মান কর এবং শিশু ও ছোটদেরকে আদর কর। (রক্তের সম্পর্কের)আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা কর।  তোমাদের জিহ্বাকেঅন্যায্য বা অনুপযোগী কথা বলা থেকে সংযত রাখ, নিষিদ্ধ বা হারাম দৃশ্য দেখাথেকে চোখকে আবৃত রাখ, যেসব কথা শোনা ঠিক নয় সেসব শোনা থেকে কানকে নিবৃতরাখ। এতীমদেরকে দয়া কর যাতে তোমার সন্তানরা যদি এতীম হয় তাহলে তারাও যেনদয়া পায়।

গোনাহর জন্যে অনুতপ্ত হও ও তওবা কর এবংনামাজের সময় মোনাজাতের জন্যে হাত উপরে তোলো, কারণ নামাজের সময় দোয়াকবুলের শ্রেষ্ঠ সময়, এ সময় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দিকে রহমতেরদৃষ্টিতে তাকান, এ সময় কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন, কেউতাঁকে ডাকলে তিনি জবাব দেন, কেউ কাকতি-মিনতি করলে তার কাকতি মিনতি তিনিগ্রহণ করেন।

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের বিবেককে নিজকামনা-বাসনার দাসে পরিণত করেছো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে একেমুক্ত করো। তোমাদের পিঠ গোনাহর ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে আছে, তাই সেজদাগুলোকেদীর্ঘ করে পিঠকে হালকা করো। জেনে রাখ মহান আল্লাহ নিজ সম্মানের শপথ করেবলেছেন, রমজান মাসে নামাজ আদায়কারী ও সেজদাকারীদেরকে জবাবদিহিতার জন্যপাকড়াও করবেন না না এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষাকরবেন।

হে মানুষেরা! তোমাদের মধ্যে কেউ যদিকোনো মুমিনের জন্য ইফতারের (দিনের রোজা শেষে যে খাদ্য গ্রহণ করা হয়)  আয়োজন করে তাহলে আল্লাহ তাকে একজন গোলামকে মুক্ত করার সওয়াব বা পুণ্য দানকরবেন এবং তার অতীতের সব গোনাহ মাফ করবেন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র সাহাবিরা প্রশ্ন করলেন: কিন্তু আমাদের মধ্যে সবাই অন্যদেরকে ইফতার  দেয়ার সামর্থ্য রাখেন না।
বিশ্বনবী (সা.) বললেন: তোমরানিজেদেরকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর, যদিও তা সম্ভব হয় একটি মাত্র খুরমারঅর্ধেক অংশ কিংবা তাও যদি না থাকে তাহলে সামান্য পানি অন্য রোজাদারকেইফতার হিসেবে আপ্যায়নের মাধ্যমে।
হে মানুষেরা! যে কেউ এই মাসে সতআচরণের চর্চা করবে তথা নিজেকে সুন্দর আচরণকারী হিসেবে গড়ে তুলবে সেপুলসিরাত পার হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে সেই বিশেষ দিনটিতে তথা কিয়ামতেরদিন যেদিন পাগুলো পিছলে যেতে চাইবে। (পুলসিরাত হল এমন এক সেতু যা দোযখেরপ্রান্ত বা ওপর দিয়ে বেহেশতের সঙ্গে যুক্ত)  যে কেউ এই মাসে তার অধীনস্থকর্মীদের কাজের বোঝা কমিয়ে দেবে আল্লাহ পরকালে তার হিসাব-নিকাশ সহজ করবেনএবং যে কেউ এই মাসে অন্যকে বিরক্ত করবে না মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামত বাবিচার-দিবসের দিন নিজের ক্রোধ থেকে নিরাপদ রাখবেন। যে কেউ  কোনো রমজানমাসে  কোনো এক এতীমকে সম্মান করবে ও তার সঙ্গে দয়ার্দ্র আচরণ করবে মহানআল্লাহও বিচার-দিবসে তার প্রতি দয়ার দৃষ্টি দেবেন। যে এই মাসে নিজেরআত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো আচরণ করবে, মহান আল্লাহও বিচার-দিবসে তার প্রতিদয়া করবেন, আর যে এই মাসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে আল্লাহওতাকে নিজ দয়া বা রহমত থেকে দূরে রাখবেন।

যে রমজান মাসে  (এ মাসের জন্য)নির্দেশিত বা নির্দিষ্ট ইবাদতগুলো করবে আল্লাহ তাকে  দোযখের আগুন থেকেরক্ষা করবেন। যে এই মাসে ফরজ বা অবশ্য পালনীয়  ইবাদত বা দায়িত্বগুলো পালনকরবে তাকে অন্য মাসে ওই একই কাজের পুরস্কারের চেয়ে সাতগুণ বেশি পুরস্কারদেয়া হবে। যে রমজান মাসে আমার ওপর সালাওয়াত বা দরুদ পাঠাবে আল্লাহ বিচারদিবসে তার ভাল কাজের পাল্লা ভারী করে দেবেন, অথচ অন্যদের পাল্লা হাল্কাথাকবে।
যে এই মাসে পবিত্র কুরআনের মাত্র একআয়াত তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে  এর বিনিময়ে এত সওয়াব দেবেন যে তা অন্যমাসে পুরো কুরআন তিলাওয়াতের সমান হবে।

হে মানুষেরা! বেহেশতের দরজাগুলো এই মাসেতোমাদের জন্য খোলা থাকবে। আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তা তোমারজন্য বন্ধ হয়ে না যায়। রমজান মাসে দোযখ বা নরকের দরজাগুলো বন্ধ রয়েছে, আল্লাহর সমীপে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তা তোমার জন্য কখনও খুলে না যায়।এই মাসে শয়তানগুলোকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দী রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছেএমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তারা তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে না পারে।”

 এ পর্যায়ে আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)বললেন : আমি প্রশ্ন করলাম, ” হে আল্লাহর রাসূল, এই মাসে সবচেয়ে ভাল আমল বা কাজ কী?”

তিনি জবাবে বললেন, ” হে আবুল হাসান, এই মাসে সবচেয়ে ভাল আমল বা কাজ হল আল্লাহ যা যা নিষিদ্ধ বা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।”

 এরপর আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)প্রশ্নকরলেন: ” হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন কাঁদছেন? এর জবাবে বিশ্বনবী (সা.)বহু বছর পর রমজান মাসে হযরত আলী (আ.)’র মর্মান্তিক শাহাদতের ভবিষ্যদ্বাণীরকথা উল্লেখ করলেন। রাসূল (সা.) বললেন, “হে আলী, এই মাসে তোমার ওপর যা আপতিতহবে তার জন্য আমি কাঁদছি। (আমি নিজেকে কল্পনা করছি) তোমার স্থানে যখন তুমিআল্লাহর সমীপে প্রার্থনা করছ এবং সামুদ জাতির কাছে পাঠানো (খোদায়ী) উটেরপা (উটটি ছিল হযরত সালেহ -আ. ‘র নবুওতি মিশনের সপক্ষে খোদায়ী মোজেজা)কর্তনকারী লোকটির মতই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি তোমার মাথারওপর আঘাত হানবে এবং তোমার দাড়ি তাতে (রক্তে) রঞ্জিত হবে।”

 নিজের শাহাদতের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা শুনেসব কিছুর আগে আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র মনে যে চিন্তাটির উদয়হয়েছিল তা এই বস্তু-জগত সম্পর্কিত ছিল না, বরং তা ছিল নিজের ঈমানসম্পর্কিত। তাই তিনি প্রশ্ন করলেন: ” হে আল্লাহর রাসূল, সে সময় কী আমারঈমান নিরাপদ থাকবে? (অর্থাত আমি কী ঈমানের ওপর অবিচল থাকব?)” রাসূল (সা.)বললেন: ” হ্যাঁ, সে সময় তোমার ঈমান নিরাপদ থাকবে।”

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলতে লাগলেন, আর তাঁর সাহাবিরা শুনছিলেন বিস্মিত হয়ে।

 রাসূল (সা.) বললেন: ” হে আলী, যে তোমাকেহত্যা করে সে (বাস্তবে) আমাকে হত্যা করল, যে তোমাকে বিরক্ত করে সে আমাকেবিরক্ত করল এবং যে তোমার অবমাননা করল সে আমার অবমাননা করল, কারণ তুমি আমারআত্মা বা প্রাণের সমতুল্য। তোমার ও আমার মানসিকতা এবং স্বভাব অভিন্ন।নিঃসন্দেহে প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত আল্লাহ প্রথমে আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবংএরপর সৃষ্টি করেছেন তোমাকে, তিনি প্রথমে বেছে নিয়েছেন আমাকে এবং এরপর বেছেনিয়েছেন তোমাকে। আল্লাহ আমাকে নবুওতের জন্য মনোনীত করেছেন, আর তোমাকেমনোনীত করেছেন ইমামতের জন্য। আর যে তোমার ইমামতকে অস্বীকার করবে সে (কার্যত) আমার নবুওতকে প্রত্যাখ্যান করল। হে আলী, তুমি আমার উত্তরাধিকারীএবং আমার সন্তানদের (নাতী-নাতনীর) পিতা এবং আমার কন্যার স্বামী এবং আমারউম্মতের জন্য আমার জীবদ্দশায় ও আমার মৃত্যুর পর আমার প্রতিনিধি বা খলিফা।তোমার নির্দেশ হল আমারই নির্দেশ এবং তোমার নিষেধাজ্ঞা হল আমারই নিষেধাজ্ঞা।সেই শক্তির শপথ করে বলছি যেই শক্তি আমাকে নবুওত দান করেছেন এবং আমাকেশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে তৈরি করেছেন, তুমি হচ্ছ সৃষ্টিকুলের জন্যহুজ্জাতুল্লাহ বা আল্লাহর নিদর্শন এবং তাঁর রহস্যগুলোর আমানতদার বাট্রাস্টি ও সৃষ্টিকুলের ওপর আল্লাহর খলিফা।”

 (সূত্র: এই বিখ্যাত ও পবিত্র হাদিসটিবর্ণনা করেছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ-সা.’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ওঅষ্টম ইমাম হযরত ইমাম রেজা-আ.। হাদিসটির বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা সূচিতহয়েছে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী –আ.’র মাধ্যমে যিনি সরাসরি রাসূল-সা.’র এইভাষণ শুনেছিলেন। ভাষণটি বিশ্বনবী-সা. দিয়েছিলেন কোনো এক শাবান মাসের শেষশুক্রবারে)

সূত্রঃ তেহরান রেডিও

sharethis আলী (আ.)র শাহাদত ও রমজান সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.)র প্রাণস্পর্শী ভাষণ

ارسال یک پاسخ

ایمیل شما منتشر نمی شود.
আবশ্যকীয় বিষয়গুলো * চিহৃ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছ।.

*


هشت − 5 =

আমাদেরসাথেযোগাযোগ| RSS | সাইটেরভূমিকা

এইসাইটেরসর্বস্বত্ব ‘ইসলাম১৪’ এরজন্যসংরক্ষিত; তবেরিফারেন্সসহকোনকিছুবর্ণনাকরতেপারেন।