2017/04/30

আপডেইট হয়েছে :  

স্বরণিকা

সর্বশেষ বিষয়

আমাদের তরফ হতে সহযোগিতা

আমি কর্তৃত্ব করছি না, মানুষের সেবা করছি: গার্ডিয়ানকে হাসিনা

২১ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধীদলের সদস্যদের গণগ্রেফতার, গুম এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও  গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানকে ঢাকায় বসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিরুদ্ধে আনা স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি দেশ, জনগণ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নেয়া তার সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাজ হলো মানুষকে সাহায্য করা। আমি সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করি, মানুষ এখন গণতন্ত্রকে উপভোগ করছে। মানুষ চায় তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হোক। তাই আমি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে তাদের সহায়তা করছি। এর মধ্যে আছে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কাজের সুযোগ এবং একটি উন্নত জীবন।’

 

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ করছে এবং এতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট। মানুষ এসব উপভোগ করছে। তো আপনি যেভাবে বললেন যে আমি কর্তৃত্ব করছি, সেটা ঠিক নয়। আমি কর্তৃত্ব করছি না। আমি সাধারণ মানুষের সেবা করছি।’

 

নিরাপত্তা সংস্থা বিশেষত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) অসাংবিধানিকভাবে  ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করছে- এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা।

 

দেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গার্ডিয়ানের এমন দাবিও নাকচ করে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে দেশের গণমাধ্যমে পরির্বতনটা এনেছে কে? আমিই এনেছি, আমিই গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত করেছি। এখন দেশে ৪১ টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং প্রায় ৭০০ সংবাদপত্র চালু আছে। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে লিখছে এবং দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও (এনজিও) নিয়ম ও আইন অনুযায়ী কাজ করছে।’

 

বিএনপি’র মতো বড় দল সাধারণ নির্বাচনে অংশ না নেয়া প্রসঙ্গে গার্ডিয়ানের প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি যার কাছ থেকে ২০০৮ সালে তিনি ক্ষমতা বুঝে নেন তাঁরা সবশেষ জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ছোট ছোট দল নিয়ে গঠন করা জোট সহজেই নির্বাচনে জয় পেয়েছে। সেই সময় থেকেই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও তার বিতর্কিত ইসলামপন্থী মিত্র জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে অবরোধ ও সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে। যা এখন পর্যন্ত একটি নিষ্ফল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।’

 

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নির্বাচনে অংশ না নেয়াটা তার (খালেদা জিয়া) একটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

 

গার্ডিয়ানের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানেরও মন্তব্য এসেছে।

 

আতাউর রহমান বলেন, সরকারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর থেকে বিশ্বাসকে নষ্ট করে দিচ্ছে এবং এর ফলে একটি প্রবল নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

 

আতাউর রহমান বলেন, ‘এখন এক ব্যক্তির শাসনের দিকে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলাফল হিসেবে আমরা গণতন্ত্রের শেষ কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাধীনতা হারিয়েছে। এমনকি সিভিল সার্ভিসের আমলাতন্ত্রেরও কোনো স্বাধীনতা নেই। নাগরিক সমাজের সদস্যরাও চাপের মধ্যে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরাও আছেন চাপে। এখন নিজেকে পাহারা দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। আপনি চিৎকার করতে পারবেন তবে এতে নিজেরই বিপদ ডেকে আনবেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও (এনজিও) ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’ বলেন আতাউর রহমান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে। শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাই তাঁর নিয়োগ দেয়া। বিরাট বড় অঙ্কের বাজেট দিয়ে এবং বেতন বাড়িয়ে সামরিক বাহিনীকে কিনে নেওয়া হয়েছে। এর এখন ব্যাংক, হোটেল, আবাসন ব্যবসা, শিল্প কারখানা এমনকি ট্যাক্সির মালিকানাও আছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ করার লোভনীয় সুযোগও আছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এখন বিশ্বের এক নম্বর শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সদস্য পাঠানো দেশ। এ ছাড়া সেনা সদস্যদের তুষ্ট করতে নতুন নতুন অস্ত্র কিনছেন শেখ হাসিনা।’

 

তাই কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের অন্তত সেনা অভ্যুত্থান মোকাবিলা করতে হবে না বলেও মনে করেন সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তা। তবে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর মধ্য ও নিম্ন পর্যায়ে থাকা রক্ষণশীল কর্মকর্তারা যে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না বলেও মত দেন তিনি।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটা চূড়ান্ত অবস্থা আসতে যাচ্ছে। সেই সময়টা কখন আসবে তা কেউ জানে না। তবে যখনই আসুক তখনই খুব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এটা বাংলাদেশ বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন কারো জন্যই সুখকর হবে না।’

 

ঢাকার সর্বাধিক বিক্রিত ইংরেজি ভাষার পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি নজিরবিহীন পরিস্থতির মুখোমুখি, যেখানে সংবাদমাধ্যম কখনই পুরোপুরি স্বাধীন ছিল না, তা এখন কর্তৃপক্ষের দ্বারা বেশ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

 

 এ প্রসঙ্গে তিনি বহুল আলোচিত ইন্টারনেট ও সম্প্রচার আইনের কথা বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি অশ্রদ্ধামূলক কোনোকিছু প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর সাথে তিনি সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং সরকারবিরোধী টেলিভিশন চ্যানেল ও সরাসরি টিভি টকশোগুলোকে টার্গেট করার কথাও বলেন। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যম এখন মারাত্মক অস্বাভাবিক পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে, যেটা প্রায়ই সেলফ সেন্সরশিপে পরিণত হচ্ছে।

 

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেছে। এখন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার দিকে নজর দিয়েছে, কারণ আমরা স্বাধীন। দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক নীতিবোধের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত কঠোর। তারা কোনো ভিন্নমত কোনোভাবেই গ্রহণ করে না।’

 

প্রতিবেদনে মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংগ্রাম শেষে তিনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রায় ছয় শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে জীবনযাত্রার মান বাড়ছে এবং তা অতীতের বিপর্যয়কর অবস্থার তুলনায় দৃঢ়। বেশির ভাগ বাংলাদেশি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চায়। নেলসন-বাংলাদেশের করা একটি সাম্প্রতিক জরিপ তাঁর পক্ষে ৬৭ শতাংশ রায় দিয়েছে।

 

মাহফু আনাম আরো বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) তাঁর বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি দিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাভূত করেছেন, তিনি দেশে জনপ্রিয়, সেনাবাহিনী তার হাতে, উন্নয়নে আছে সাফল্যের গল্প এবং সংবিধান তাঁকে দিয়েছে অসীম ক্ষমতা।’

 

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে হাসিনার বাংলাদেশে কারো ক্ষমতা নেই চাপ প্রয়োগ করার। অল্প কিছু মানুষেরই সাহস আছে চাপ প্রয়োগের। স্বাভাবিকভাবে, হাসিনার শেষ শব্দ আছে, ‘আমাদের দেশে আমরা আপনাদের ওয়েস্টমিনিস্টার ধরনের গণতন্ত্র চর্চা করি। যত দিন মানুষ চাইবে তত দিন আমি থাকব। যদি তারা না চায়। ঠিক আছে। যদিও আমার ক্ষমতা থাকুক আর নাই থাকুক আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব এবং আমি এখনো তাই করছি।’

 

রেডিও তেহরান/এআর/২১

 

 

sharethis আমি কর্তৃত্ব করছি না, মানুষের সেবা করছি: গার্ডিয়ানকে হাসিনা

ارسال یک پاسخ

ایمیل شما منتشر نمی شود.
আবশ্যকীয় বিষয়গুলো * চিহৃ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছ।.

*


شش − = 3

আমাদেরসাথেযোগাযোগ| RSS | সাইটেরভূমিকা

এইসাইটেরসর্বস্বত্ব ‘ইসলাম১৪’ এরজন্যসংরক্ষিত; তবেরিফারেন্সসহকোনকিছুবর্ণনাকরতেপারেন।